বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট খোলার নিয়ম ২০২৬

আপনি কি বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট খোলার নিয়ম সম্পর্কে জানতে গুগলে সার্চ করছেন? তাহলে নিচের আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ পড়ুন। কেননা আর্টিকেলের মধ্যেবিস্তারিত ভাবে আলোচনা করেছি কিভাবে বিকাশ এজেন্ট  একাউন্ট ও বিকাশ একাউন্টের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য।

বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট খোলার নিয়ম ২০২৬

বিকাশ বাংলাদেশের মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান গুলোর মধ্যে অন্যতম একটি প্রতিষ্ঠান। আপনাদের মধ্যেই অনেকেই ব্যবসার কাজের জন্য বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট খুলতে চান কিন্তু, জানেন না কিভাবে একাউন্ট খোলাবেন? আশাকরি আর্টিকেলটি পড়লে এ সকল প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন ও বিকাশ সম্পর্কে আরও অনেক তথ্য জানতে পারবেন।

পোস্ট সূচিপত্র.

বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট খোলার নিয়ম| বিকাশ এজেন্ট রেজিস্ট্রেশন

বর্তমানে বিকাশের মাধ্যমে অনেকেই টাকা লেনদেন করে থাকে। কিন্তু আপনাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা বিকাশ এর সাধারণ একাউন্ট ব্যবহার করেন কিন্তু ব্যবসার কাজ বা বেশি লেনদেনের জন্য এজেন্ট একাউন্ট খোলার নিয়ম সম্পর্কে জানেন না। বিশেষ করে তাদের জন্য বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট খোলার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হলো-

প্রথমত বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট খোলার জন্য তিনটি নিয়ম রয়েছে। অর্থাৎ বিকাশ প্রতিনিধি মাধমে, বিকাশ ড্রিস্টিবিউটর অফিসে গিয়ে অথবা আপনি সরাসরি অনলাইনে মাধ্যমে নিজেই আবেদনের করতে পারবেন।

বিকাশ প্রতিনিধির কাছে / বিকাশ ড্রিস্টিবিউটর অফিস 

বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট খোলার জন্য প্রথমত সকল শর্ত জেনে ওআপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্সের কপি, টিন সার্টিফিকেট, আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র ও ছবি নিয়ে অর্থাৎ সকল কাগজপত্র নিয়ে বিকাশ প্রতিনিধির কাছে / বিকাশ ড্রিস্টিবিউটর অফিসে যেতে হবে।

তারপর তারা আপনার কাগজপত্র সঠিক ভাবে যাচাই-বাছাই করে যদি বিকাশ এজেন্ট দেওয়ার উপযুক্ত মনে করলে ট্রেনিং- এ ডাকা হবে। ট্রেনিংয়ের তারিখ থেকে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে আপনার সিমটিকে লেনদেনের জন্য সক্রিয় করে দেওয়া হবে।

 অনলাইনে বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট খোলার নিয়ম

 তারা নিচের নিয়ম অনুসরণ করে বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট খুলে নিতে পারেন-

  • ধাপ ১:- ওয়েবসাইটে প্রবেশ

বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট খোলার জন্য সবার প্রথমে আপনার মোবাইলের ক্রোম ব্রাউজার অথবা যে কোন একটি ব্রাউজার ওপেন করুন এবং সার্চবারে bkash.com লিখে সার্চ করুন। এখন সার্চ রেজাল্টে আশা প্রথম ওয়েবসাইট অর্থাৎ, Bkash মেইন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন। অর্থাৎ নিচের ছবির মত এমন একটি ইন্টারফেস আপনার সামনে ওপেন হবে।

বিকাশের হোম পেইজে প্রবেশ করলে সেখানে সাইডবারে থ্রি ডটের ওপর ক্লিক করলে  অনেক গুলো অপশন পাবেন। যেমন:

  • Campaigns-ক্যাম্পেন্স
  • Services- সার্ভিসেস
  • Business- বিজনেস
  • Help- হেল্প
  • Career- ক্যারিয়ার
  • Introduction-পরিচিতি
  • Blog- ব্লক এবং 
  • Student স্টুডেন্ট

বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট তৈরি করার জন্য নিচের দেখানো অনুযায়ী “বিজনেস” অপশনে ক্লিক করুন। তাহলে আপনাকে পরবর্তী ধাপে নিয়ে যাবে এবং সেখানেও আপনি অনেক গুলো অপশন দেখতে পাবেন। এখান থেকে  আপনাকে  “এজেন্ট ” লিখা আছে অপশনে ক্লিক করুন।

এরপর “এজেন্ট ” অপশনে ক্লিক করুন। তাহলে আপনাকে পরবর্তী ধাপে নিয়ে যাবে সেখানে বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট খোলার একটি ফরম দেখতে পাবেন। এখন আপনাকে স্ক্রোল করে নিচে  ফরমটি সঠিক তথ্য দিয়ে পূরণ করে জমা অপশনে ক্লিক করতে হবে। যেমন:

  • ধাপ ২:-ফরম ফিল-আপ করার নিয়ম

বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট খোলার জন্য আপনাকে ফরমটি সঠিক তথ্য দিয়ে পূরণ করতে হবে। 

  • প্রথমেই এজেন্ট বা দোকানের নাম দিতে হবে ও দোকান কোথায় অবস্থিত সে জেলার নাম এবং এলাকা নির্বাচন করতে হবে।
  • এরপর যোগাযোগের জন্য আপনার নাম, মোবাইল নাম্বার ও ইমেইল দিন। এছাড়াও যদি অন্য কোন উপায় আপনাকে খুঁজে পাওয়া যায় সেটি করতে পারেন। 
  • তারপর আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র আছে কিনা সেটি জানতে চাইবে। সেখানে হ্যাঁ ক্লিক করুন। আর এজেন্ট একাউন্ট খুলতে জাতীয় পরিচয় পত্র থাকতেই হবে। 
  • এরপর আপনার বৈধ ট্রেড লাইসেন্স আছে কিনা সেটা জিজ্ঞেস করবে। এখানে হ্যাঁ ক্লিক করে ট্রেড লাইসেন্সের নাম্বার এবং ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ তারিখ তথ্য দিয়ে “জমা দিন” এই অপশনে ক্লিক করুন।

উপরের সকল তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করলে বিকাশ থেকে যে কোনো প্রতিনিধি আপনার সাথে যোগাযোগ করবে। এরপর নির্দিষ্ট প্রতিনিধি আপনার সাথে সরাসরি যোগাযোগের পর আরো কিছু ডকুমেন্টস চাইবে বা প্রশ্ন করবে সেগুলোর সঠিক ভাবে উত্তর দিবেন তাহলে আপনার মার্জিন একাউন্টটি তৈরি হয়ে যাবে। অর্থাৎ আপনার বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট খোলার সময় যে ইমেইল এড্রেস ব্যবহার করেছেন। সেই ইমেইল এড্রেসে বিকাশ থেকে একটি মেইল চলে আসবে।

অথবা বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট খোলার সময় যে মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করেছেন। সেই মোবাইল নম্বরে বিকাশ থেকে সরাসরি ফোন দিবে এবং আপনাকে জিজ্ঞেস করবে আপনি বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট খুলবেন কিনা। তারপর বিকাশ কোম্পানির প্রতিনিধি আপনার সাথে সরাসরি আপনার দোকানে এসে দেখা করবে এবং আপনার বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট সেটিং চালু করে দিবে। ‌

আপনার যখন বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট একটিভ হয়ে যাবে। তখন আপনি গুগল প্লে-স্টোর থেকে বিকাশ এজেন্ট অ্যাপসটি ইন্সটল করুন। তারপর আপনার বিকাশ এজেন্ট নম্বরটি ব্যবহার করে একাউন্ট লগইন করুন। তাহলে আপনি যত ট্রানজেকশন করবেন সকল ট্রানজেকশন বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট যোগ হবে। এখন আপনি বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট ব্যবহার করে টাকা ডিপোজিট এবং উইথড্র করতে পারবেন।

বিকাশ এজেন্ট কমিশন কত

প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ টাকা পাঠানো, ক্যাশ আউট, মোবাইল রিচার্জসহ বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনের জন্য বিকাশ ব্যবহার করে। এই সেবাগুলো সহজভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বিকাশ এজেন্টরা।

বিকাশ এজেন্টরা মূলত গ্রাহকদের নগদ টাকা জমা (Cash In), উত্তোলন (Cash Out) এবং অন্যান্য সেবা প্রদান করে থাকেন। এসব সেবার বিনিময়ে তারা নির্দিষ্ট হারে কমিশন পান। বিকাশ এজেন্ট কমিশন ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। যেমন, আপনি বিকাশ USSD Code ডায়াল করে লেনদেন করলে একরকম কমিশন আবার বিকাশ এজেন্ট অ্যাপ থেকে লেনদেন করলে ভিন্ন কমিশন।

বিকাশ এজেন্ট কমিশন টাকা পরিমান
বিকাশ এজেন্ট অ্যাপের মাধ্যমে লেনদেন প্রতি হাজারে ৪.৩০ টাকা
USSD Code ব্যবহার করে লেনদেন প্রতি হাজারে ৪.১০ টাকা

বিকাশ এজেন্ট অ্যাপ ব্যবহার করে লেনদেন করলে প্রতি ১ হাজার টাকায় ৪.৩০ টাকা কমিশন পাওয়া যায়। তবে, যদি এজেন্টরা যদি অ্যাপের মাধ্যমে লেনদেনের  ৯০% সম্পন্ন করেন, তাহলে অতিরিক্ত বোনাস হিসেবে প্রতি ১ হাজারে আরও ০.২০ টাকা কমিশন পাবেন। অন্যদিকে, USSD কোড (*247#) ব্যবহার করে লেনদেন করলে প্রতি ১ হাজার টাকায় ৪.১০ টাকা কমিশন প্রদান করা হয়।

এছাড়াও বিকাশের নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে যদি কাজ করা যায় তাহলে মাস শেষে এক্সট্রা ইনসেনটিভ লাভ পাওয়া যায়। বিকাশ এজেন্ট কমিশন যে কোন সময় পরিবর্তন হতে পারে। তাই সময়ের সাথে সাথে আপডেট থাকতে বিকাশের অফিশিয়াল সাইটে ভিজিট করে কমিশন দেখে নিন। 

বিকাশ এজেন্ট হওয়ার শর্ত

বিকাশ এজেন্ট হওয়ার জন্য প্রথমে আপনার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকতে হবে এবং সকল শর্ত আপনাকে পূরণ করতে হবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে বিকাশ বিক্রয় প্রতিনিধি/বিকাশ ড্রিস্টিবিউটর অফিসে যোগাযোগ করে এজেন্ট হওয়ার আপনার আগ্রহ প্রকাশ করুন। অনলাইনে বিকাশ ওয়েবসাইট থেকেও বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট খোলার জন্য অনুরোধ পাঠাতে পারেন। আপনার অনুরোধ যাচাই বাছাই করার জন্য আপনাকে ফোন করে পরবর্তী পদক্ষেপে নেওয়া হবে। বিকাশ এজেন্ট হিসেবে নিবন্ধিত হতে হলে কিছু যোগ্যতা বা শর্ত পূরণ করতে হয়। নিচে তার বিস্তারিত দেওয়া হলো-

ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান: বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট খোলার জন্য অবশ্যই নিজের বা ভাড়া করা একটি দোকান থাকতে হবে। অর্থাৎ একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থাকতে হবে।

ট্রেড লাইসেন্স: মেয়াদসহ হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স লাগবে। অর্থাৎ আপনার নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে ট্রেড লাইসেন্স থাকতে হবে। এটি আপনারা ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশন থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন। 

টিন সার্টিফিকেট: বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট খোলার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) থেকে ১২ ডিজিটের ই-টিন (e-TIN) সার্টিফিকেট লাগবে।

সিম কার্ড: একটি নতুন বা অব্যবহৃত সিম কার্ড যা আগে কখনো কোনো বিকাশের কাজে ব্যবহার করা হয়নি। (পরবর্তীতে এই সিমে এজেন্ট অ্যাকাউন্ট সক্রিয় করা হয়)। 

এছাড়াও বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট খোলার জন্য আপনার নিম্নোক্ত ডকুমেন্ট গুলো প্রয়োজন হবে। ‌যেমন:

  • আপনার বৈধ NID Card অর্থাৎ জাতীয় পরিচয় পত্র থাকতে হবে।
  • আপনার বৈধ ট্রেড লাইসেন্স থাকতে হবে
  • ব্যাংক একাউন্ট এবং
  • আপনার মোবাইল নাম্বার/ইমেইল এড্রেস এবং ব্যবসার ঠিকানা প্রয়োজন হবে।

উল্লেখিত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুলো থাকলেই আপনি বিকাশ এজেন্ট রেজিস্ট্রেশন করার জন্য আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবেন। এছাড়াও  বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট খোলার আরও কিছু শর্ত রয়েছে। যেমন-

  • প্রথমবারে ১ লক্ষ টাকা আপনার একাউন্টে রিচার্জ করতে হবে।
  • প্রতিমাসে নুন্যতম ৫ টি বিকাশ পার্সোনাল একাউন্ট খুলতে হবে।
  • এজেন্ট একাউন্টে সর্বনিম্ন ৭,০০০ টাকা ব্যালেন্স রাখতে হবে।
  • প্রতিদিন কমপক্ষে ২,০০০ টাকা লেনদেন করতে হবে।

বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট ক্যাশ আউট চার্জ

বাংলাদেশে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মধ্যে বিকাশ অন্যতম জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম, যা ব্যবসায়ীদের জন্য সহজে টাকা গ্রহণ ও ব্যবস্থাপনার সুযোগ তৈরি করেছে। এজেন্ট একাউন্টের মাধ্যমে দোকানদাররা গ্রাহকের কাছ থেকে পেমেন্ট গ্রহণ করতে পারেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সেই টাকা ক্যাশ আউট করতে পারেন

বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট থেকে এজেন্ট পয়েন্টে ক্যাশ আউট চার্জ সাধারণত ১.৪৯% (হাজারে ১৪.৯০ টাকা), যা প্রতি মাসে ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত প্রযোজ্য  এই সুবিধা পেতে অ্যাপ বা *২৪৭# ডায়াল করে প্রিয় এজেন্ট সেট করতে হয়।  ৫০,০০০ টাকার বেশি হলে বা সাধারণ এজেন্ট থেকে ক্যাশ আউট করলে চার্জ ১.৮৫% (হাজারে ১৮.৫০ টাকা। 

বিকাশ এজেন্ট লিমিট 

bKash এজেন্ট একাউন্টের লিমিট সাধারণ পার্সোনাল একাউন্টের থেকে কিছুটা ভিন্ন এবং ব্যবসায়িক প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। এজেন্ট একাউন্ট মূলত ব্যবসায়ীদের জন্য তৈরি, যাতে তারা গ্রাহকের কাছ থেকে সহজে পেমেন্ট গ্রহণ করতে পারেন এবং সেই টাকা ব্যবস্থাপনা করতে পারেন।

বিকাশ এজেন্ট লিমিট চেক করার জন্য আপনার বিকাশ বিকাশ এজেন্ট একাউন্টে  প্রবেশ করুন এবং একাউন্টের প্রোফাইল আইকনে ক্লিক করুন। তাহলে নতুন একটি ইন্টারফেস ওপেন হবে সেখান থেকে “লিমিট” অপশনে ক্লিক করুন তাহলেই আপনি আপনার বিকাশ এজেন্ট একাউন্টের  লিমিট দেখতে পারবেন । অথবা,

নিচে এই লিঙ্ক এ ক্লিক করে বিকাশ এজেন্ট লিমিট চেক করতে পারবেন bKash.com। এছাড়াও বিকাশ এজেন্ট লিমিট সংক্রান্ত কিছু সংগৃহীত তথ্য বিকাশ ওয়েবসাইট থেকে বিস্তারিত দেওয়া হলো-

  • একজন বিকাশ গ্রাহক তার বিকাশ একাউন্ট থেকে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩০,০০০ টাকা এবং প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ২০০,০০০ টাকা পর্যন্ত টাকা ক্যাশ আউট করতে পারবেন (এজেন্ট এবং এটিএম থেকে সম্মিলিতভাবে)।
  • প্রতি লেনদেনে সর্বনিম্ন পেমেন্টের পরিমাণ ১টাকা। অন্যান্য ক্ষেত্রে, এজেন্টের ধরন অনুযায়ী সর্বোচ্চ লিমিট ভিন্ন হতে পারে।
  • একজন বিকাশ একাউন্ট হোল্ডার যে কোন মুহূর্তে তার একাউন্টে-এ সর্বোচ্চ ৫০০,০০০ টাকা রাখতে পারবেন।
  • বিকাশ একাউন্ট থেকে যেকোনো প্রিপেইড নাম্বারে সর্বোচ্চ *১,০০০ টাকা এবং পোস্টপেইড নাম্বারে সর্বোচ্চ *৭,০০০ টাকা মোবাইল রিচার্জ করতে পারবেন। তবে, যেকোনো প্রিপেইড নাম্বারে ১,০০১ থেকে ৭,০০০ টাকার মধ্যে কোনো প্যাক অথবা অফার থাকলে বিকাশ থেকে রিচার্জ করে তা নেয়া যাবে। বিস্তারিত জানতে আপনার মোবাইল অপারেটরের সাথে যোগাযোগ করুন।
  • রেমিটেন্স-এর ক্ষেত্রে বিদেশ থেকে একজন ব্যক্তি বাংলাদেশে এক লেনদেনে সর্বোচ্চ ২৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত পাঠাতে পারবেন। প্রেরিত অর্থের সাথে প্রতিবার ২.৫% সরকারি প্রণোদনা যুক্ত হবে এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ব্যাংক কর্তৃক প্রদত্ত প্রণোদনা যুক্ত হবে।
  • রেমিটেন্স-এর ক্ষেত্রে বিকাশ একাউন্টে সর্বোচ্চ ৫০০,০০০ টাকা রাখার শর্তটি প্রযোজ্য নয়। তবে বিকাশ একাউন্টের ব্যালেন্স ৫০০,০০০ টাকার নিচে না নামা পর্যন্ত ক্যাশ ইন/অ্যাড মানি/মানি রিসিভ সহ কোনো ধরনের টাকা গ্রহণ বা আনতে পারবেন না (রেমিটেন্স ও সরকারি ভাতা ব্যতীত)।
  • অপারেটরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যেকোনো গ্রামীণফোন, রবি, এয়ারটেল ও  বাংলালিংক নাম্বারে সরাসরি মোবাইল রিচার্জের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন লিমিট ২০ টাকা। তবে, ২০ টাকার নিচে অপারেটরের কোনো ধরনের প্যাক অথবা অফার থাকা সাপেক্ষে গ্রাহকেরা বিকাশ এর মাধ্যমে রিচার্জ করে প্যাক বা অফারটি নিতে পারবেন।
  • অপারেটরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী টেলিটক নাম্বারে সরাসরি মোবাইল রিচার্জের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন লিমিট ১০ টাকা এবং যেকোনো গ্রামীণফোন, রবি, এয়ারটেল ও  বাংলালিংক নাম্বারে রিচার্জের সর্বনিম্ন লিমিট ২০ টাকা। তবে, ২০ টাকার নিচে অপারেটরের কোনো ধরনের প্যাক অথবা অফার থাকা সাপেক্ষে গ্রাহকেরা বিকাশ এর মাধ্যমে রিচার্জ করে প্যাক বা অফারটি নিতে পারবেন।

বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট এর সুবিধা অসুবিধা 

বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট বর্তমান সময়ে ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থায় ব্যবসায়ীদের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এর মাধ্যমে সহজেই গ্রাহকদের কাছ থেকে দ্রুত ও নিরাপদে টাকা পাঠানো যায়। তবে বিকাশ এজেন্ট একাউন্টের কিছু সুবিধা ও অসুবিধা রয়েছে যে গুলো বিকাশ এজেন্ট ব্যবহার করার আগে সঠিক ভাবে জানা অত্যন্ত জরুরি-

বিকাশ এজেন্ট একাউন্টের সুবিধা

এজেন্ট একাউন্ট ব্যবসায়ীদের জন্য ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণের একটি জনপ্রিয় মাধ্যম। বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট সুবিধা সমূহ নিচে দেওয়া হলো-

  • আপনি যদি বিকাশ মার্জেন্ট একাউন্ট ব্যবহার করার পর মোবাইলের রিচার্জ করেন তাহলে ১% কমিশন পাবেন। অর্থাৎ, আপনি যদি ১০০০ টাকা মোবাইলে রিচার্জ করেন। তাহলে আপনি ১০ টাকা কমিশন পাবেন।
  • দোকান অথবা ব্যবসার ক্ষেত্রে বিকাশ এজেন্ট একাউন্টের মাধ্যমে কাস্টমারের কাছে থেকে খুব সহজেই পেমেন্ট গ্রহণ করা যায়।
  • বিকাশ মার্জেন্ট একাউন্টের কিউআর (QR) কোড স্ক্যান করে বা এজেন্ট নম্বর ডায়াল করে গ্রাহকরা লেনদেন করতে পারবে। এতে করে কাস্টমারের সময় বাঁচবে এবং নিরাপদে লেনদেন বা  পেমেন্ট করতে পারেন।
  • সরাসরি বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট থেকে ব্যাংকে টাকা ট্রান্সফার করা যায়।
  • এজেন্ট অ্যাপের মাধ্যমে দৈনিক, সাপ্তাহিক বা মাসিক সমস্ত লেনদেনের ডিজিটাল বিবরণী (Statement) দেখা যায়। ফলে খাতা-কলমে হিসাব রাখার ঝামেলা কমে।
  • বিকাশ অনেক সময় এজেন্ট একাউন্টের ডিসকাউন্ট অথবা ক্যাশ আউটের সুযোগ দিয়ে থাকে।
  • বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট ব্যবহার করে কোন প্রকারের ঝামেলা ছাড়াই লেনদেন করা যায় এবং ক্যাশ ব্যবসার ঝুঁকি কমে এবং কর্মচারী দিয়ে টাকা গণনার প্রয়োজন হয় না।

বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট অসুবিধা

বিকাশ এজেন্ট একাউন্টের যেমন সুবিধা রয়েছে তেমনি কিছু কিছু অসুবিধা রয়েছে। নিচে বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট অসুবিধা সমূহ নিচে দেওয়া হলো-

  • বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট ব্যবহার করে কাস্টমারের কাছ থেকে পেমেন্ট গ্রহণ করলে, লেনদেন বা ব্যাংক ট্রান্সফারে নির্দিষ্ট চার্জ কাটা হতে পারে।
  • বিকাশ এজেন্ট একাউন্টের মাধ্যমে বড় লেনদেন করা ঠিক না। তার কারণ হলো বিকাশ এজেন্ট  একাউন্টের দৈনিক/মাসিক একটি লিমিট রয়েছে।
  • এজেন্ট একাউন্ট খোলার জন্য বৈধ ব্যবসা (ট্রেড লাইসেন্স, ব্যাংক একাউন্ট) থাকতে হয়। 
  • বিভিন্ন সময়ে সার্ভার কম কাজ করার কারণে বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট লেনদেন বন্ধ থাকে। যেটি ব্যবসায়ীদের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
  • শুধুমাত্র ব্যক্তিগত একাউন্ট থেকে পেমেন্ট নেওয়া যায়, সব ক্ষেত্রে ব্যবসা-টু-ব্যবসা লেনদেন সম্ভব নয়।
  • বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট ব্যবহার করার সময় ইন্টারনেট সংযোগ প্রয়োজন হয়।
  • কিছু কিছু সময় বিকাশ এজেন্ট কাস্টমার কেয়ারে সমস্যা থাকার কারণে কাস্টমারদের সমস্যা হয়।
  • এজেন্ট একাউন্ট থেকে সরাসরি ক্যাশ আউট করা যায় না; সাধারণত ব্যাংকের মাধ্যমে তুলতে হয়। 

বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট বন্ধ করার নিয়ম

বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট বন্ধ করার নিয়ম সাধারণ বিকাশ একাউন্টের মতোই কিছু নির্দিষ্ট শর্ত ও ধাপ অনুসরণ করে করতে হয়। নিচে সহজভাবে ধাপে ধাপে নিয়মগুলো দেওয়া হলো-

প্রথমে আপনার বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট “লগইন” করতে হবে। তারপর ডান পাশ থেকে বিকাশের লোগো আইকনের ক্লিক করলেই পরবর্তী অপশনে অনেক গুলো অপশন দেখতে পাবেন সেখান থেকে নিচের দিকে স্ক্রোল করলেই “সেটিং” নামে একটি অপশন দেখতে পাবেন।

বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট বন্ধ করার জন্য “সেটিংস” অপশনে ক্লিক করতে হবে। তাহলে আপনাকে পরবর্তী ধাপে নিয়ে যাবে এবং সেখানে তিনটি অপশন দেখতে পাবেন। যেমন-

  • নাম পরিবর্তন করুন, ছবি পরিবর্তন করুন এবং একাউন্ট ম্যানেজ।

  1. এখানে “একাউন্ট ম্যানেজ” অপশনে ক্লিক করুন। তাহলে আপনাকে পরবর্তী ধাপে নিয়ে যাবে এবং সেখানে বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট বন্ধ করার সকল প্রসেস চলে আসবে। যেমন: এজেন্ট একাউন্টে কোনো টাকা রাখা যাবে না। সব টাকা ক্যাশ আউট বা ট্রান্সফার করে ব্যালেন্স ০.০০ করতে হবে।
  2. তারপর আপনার বিকাশ একাউন্টের সকল সেভিংস এবং সাবস্ক্রিপশন বাতিল করতে হবে।
  3. এরপর এজেন্ট একাউন্ট বন্ধ করতে নিজে উপস্থিত হয়ে নিকটস্থ বিকাশ কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে যেতে হবে এবং আবেদন করতে হবে।

অর্থাৎ বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট বন্ধ করার জন্য উপরে উল্লেখিত সকল প্রসেস সম্পন্ন করতে হবে এবং আপনার নিকটস্থ বিকাশ কাস্টমার কেয়ার যোগাযোগ করতে হবে। তাহলে তারা আপনার বিকাশ এজেন্ট একাউন্টটি বন্ধ করে দিবে।

বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট খোলার নিয়ম-শেষ কথা

আজকের  আলোচনার মুখ্য বিষয় বিকাশ এজেন্ট  একাউন্ট খোলার নিয়ম সম্পর্কে। আশা করি, আজকের পোস্টটি পড়ে বুঝতে পেরেছেন। বিকাশ  এজেন্ট একাউন্ট খোলার নিয়ম  সম্পর্কে। এমনই গুরুত্বপূর্ণ ও শিক্ষনীয় আর্টিকেল প্রতিদিন পেতে নিয়মিত আমাদের helpmulti.com ওয়েবসাইটটি ভিজিট করতে পারেন। এতক্ষণ আমাদের সাথে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url