রাজশাহী বিভাগের জেলা ও উপজেলা সমূহ

রাজশাহী বিভাগের জেলা ও উপজেলা সমূহ সম্পর্কে জানতে চান? তাহলে আপনি সঠিক জায়গাতে এসেছেন। কারণ আজকের আর্টিকেল এর মধ্যে আমরা রাজশাহী বিভাগের জেলা ও উপজেলা সমূহ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানাবো। এছাড়াও  রাজশাহী বিভাগের ইতিহাস, ঐতিহাসিক স্থানসমূহ ও সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।

রাজশাহী বিভাগের জেলা ও উপজেলা সমূহ

বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন নগরী হিসেবে প্রসিদ্ধ হচ্ছে রাজশাহী। এবং সবচেয়ে সুন্দর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে রাজশাহীকে  গ্রীন সিটি বলা হয়। মূলত রাজশাহী বিভাগ বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম অংশে অবস্থিত এবং এটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বিভাগ হিসেবে পরিচিত। এটি তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহাসিক স্থান এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের জন্য পরিচিত।

রাজশাহী বিভাগটি মোট ৮টি জেলা নিয়ে গঠিত, যার প্রতিটি জেলার নিজস্ব ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং অর্থনৈতিক কার্যকলাপ রয়েছে। এই বিভাগটি দেশের অন্যান্য অংশের সাথে সংযোগ স্থাপনকারী গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও রেলপথ দ্বারা সজ্জিত, যা ব্যবসা-বাণিজ্য এবং যোগাযোগকে সহজ করে তুলেছে। রাজশাহী বিভাগের মূল শহর, রাজশাহী। তাছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মেডিকেল কলেজ এবং ঐতিহাসিক স্থাপনার জন্যও রাজশাহী বিখ্যাত।

পোস্ট সূচিপত্র.

রাজশাহী বিভাগের জেলা সমূহ?

বাংলাদেশের মধ্যে বিভাগীয় শহর হিসেবে রাজশাহী তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে। রাজশাহী বিভাগে  বড় আটটি জেলা রয়েছে। রাজশাহীতে শিক্ষা প্রতিসষ্ঠান বেশি তাই শিক্ষা নগরী ও রাজশাহী সিলকের জন্য সিটিও বলা হয়। আবার রেশম শিল্প নগরী নামেও ডাকা হয়। রাজশাহীর বিভিন্ন দার্শনিক ঐতিহাসিক স্থানগুলো শিক্ষনীয় বিষয় রয়েছে। নিচে রাজশাহী বিভাগের ৮টি জেলার তালিকা দেওয়া হলো-

  • রাজশাহী – রাজশাহী বিভাগের কেন্দ্রবিন্দু, শিক্ষানগরী ও আমের জন্য বিখ্যাত।
  • চাঁপাইনবাবগঞ্জ – এই জেলাকে মূলত আমের রাজধানী বলা হয় ও সোনা মসজিদের  জন্য বিখ্যাত।
  • নাটোর – ঐতিহাসিক স্থাপনা যেমন, উত্তরা গণভবন ও নাটোর রাজবাড়ির জন্য বিখ্যাত।
  • নওগাঁ – পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার, কুসুম্বা মসজিদ, ধান ও খাদ্যশস্য উৎপাদনের জন্য পরিচিত।
  • পাবনা – রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ঐতিহাসিক স্থাপনা এবং কৃষি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ।
  • সিরাজগঞ্জ – তাঁতের শাড়ি ও যমুনা সেতু, নদী ও জলাভূমির জন্য পরিচিত।
  • বগুড়া – মহাস্থানগড় ও দইয়ের জন্য অনেক বেশি প্রসিদ্ধ।
  • জয়পুরহাট – সিল্ক, আলু এবং অন্যান্য পণ্য উৎপাদনের জন্য পরিচিত।

রাজশাহী বিভাগের জেলা ও উপজেলা সমূহ 

১. রাজশাহী জেলার উপজেলা সমূহ 

  • পবা, গোদাগাড়ী, তানোর,মোহনপুর, দুর্গাপুর, চারঘাট, পুঠিয়া, বাঘা ও বাগমারা উপজেলা ইত্যাদি।

রাজশাহী বিভাগের প্রধান শহর হচ্ছে  রাজশাহী। মূলত রাজশাহী আম এবং রেশম শিল্পের জন্য বিখ্যাত। আবার রাজশাহীকে শিক্ষা নগরী হিসাবেও  অবহিত করা হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (RU) ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (RMC) এখানে অবস্থিত। এছাড়াও আরও ভলো মানের কলেজ রয়েছে যেমন,  রাজশাহী কলেজ, রাজশাহী নিউ গভঃ ডিগ্রী কলেজ, রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজ ও রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজ।

বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ রাজশাহী অবস্থিত পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত, যা ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

২. চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার উপজেলা সমূহ 

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, ভোলাহাট, শিবগঞ্জ, গোমস্তাপুর ও নাচোল উপজেলা ইত্যাদি।

বাংলাদেশের আম উৎপাদনের শীর্ষ জেলা হচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ। আম উৎপাদনে শীর্ষস্থান হওয়ার একে “আমের রাজধানী” বলা হয়। এখানকার সেরা জাতের আম যেমন- হিমসাগর, ল্যাংড়া, ফজলি এবং কাটিমন বিখ্যাত। ঐতিহাসিক স্থান: দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর সোনা মসজিদ স্থলবন্দর (প্রাচীন মসজিদ), ছোট সোনা মসজিদ এবং বারঘরিয়া আমবাগান  উল্লেখযোগ্য।    

৩. নাটোর জেলার উপজেলা সমূহ 

  • নাটোর সদর, লালপুর, সিংড়া,  বাগাতিপাড়া, বড়াইগ্রাম,গুরুদাসপুর, নলডাঙ্গা উপজেলা ইত্যাদি।

বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দুধ ও মিষ্টির জেলা। নাটোরের বেলদী বাজার এবং গোপালপুরের মিষ্টি জাতীয় পর্যায়ে জনপ্রিয়। এ জেলার দই এবং চিনি মোড়া মিষ্টি ও নাটোরের কাঁচা গোল্লা  সারা দেশে প্রসিদ্ধ।। চলনবিলের বিশাল অংশ পাটুল এখানে অবস্থিত যাকে মিনি কক্সবাজার বলা হয়, যা মাছ উৎপাদন, জেলা কৃষি এবং ব্যবসার জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। নাটোর রাজবাড়ি এবং উত্তরা গণভবনের জন্য বিখ্যাত। 

৪. নওগাঁ জেলার উপজেলা সমূহ 

  • নওগাঁ সদর, নিয়ামতপুর, সাপাহার, পোরশা, মান্দা,  রাণীনগর, আত্রাই, মহাদেবপুর, বদলগাছী, পত্নিতলা, ধামইরহাট উপজেলা ইত্যাদি।

নওগাঁ জেলা কৃষিতে সমৃদ্ধ কারণ অনেকেই নওগাঁকে ধানের ভাণ্ডার নামে চিনে থাকে। দেশের অন্যতম শস্য উৎপাদনকারী জেলা ও রাজশাহী বিভাগের বৃহত্তম জেলা। এখানে বিভিন্ন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেমন পুকুর ও জলাশয় রয়েছে।বর্তমান সময়ে নওগাঁতে প্রচুর পরিমাণে আম উৎপাদন করা হচ্ছে। এছাড়াও পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার, যা ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃত, এখানে অবস্থিত।

৫. জয়পুরহাট জেলার উপজেলা সমূহ 

  • জয়পুরহাট সদর, পাঁচবিবি, আক্কেলপুর, কালাই, ক্ষেতলাল উপজেলা ইত্যাদি।

রাজশাহী বিভাগের সবচেয়ে ছোট জেলা। বাংলাদেশের একমাত্র চুনাপাথরের খনি রয়েছে। জয়পুরহাট জেলা কৃষির ওপর নির্ভরশীল। এখানকার জয়পুরহাট বাজার এবং জলসা কৃষি প্রদর্শনী এলাকার বাণিজ্যিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

৬. বগুড়া জেলার উপজেলা সমূহ 

  • বগুড়া সদর, নন্দিগ্রাম, সোনাতলা, সারিয়াকান্দি, শাজাহানপুর , দুপচাচিঁয়া, আদমদিঘি ,  কাহালু, ধুনট, গাবতলী, শেরপুর, শিবগঞ্জ উপজেলা ইত্যাদি।

বগুড়াকে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার বলা হয়। বগুড়ার মহাস্থানগড়, যা বাংলাদেশের প্রাচীনতম পুরাকীর্তি, এখানে অবস্থিত এবং এখানকার দই অনেক বিখ্যাত। বগুড়া জেলা কৃষি এবং শিক্ষার জন্য পরিচিত। বগুড়ার বাটার পুথি এবং বগুড়ার বেগুনী জাতীয়ভাবে প্রসিদ্ধ।

৭. পাবনা জেলার উপজেলা সমূহ 

  • পাবনা সদর, সুজানগর, চাটমোহর, ঈশ্বরদী, ভাঙ্গুড়া,  বেড়া, আটঘরিয়া, সাঁথিয়া উপজেলা, ফরিদপুর ইত্যাদি।

পাবনায় দেশের অন্যতম প্রধান ঔষধশিল্পের কেন্দ্র অর্থাৎ বৃহত্তম ঔষধ কোম্পানি স্কয়ার, বেক্সিমকো, এসকেএফ ইত্যাদির কারখানা রয়েছে। প্রাচীন শিল্পকেন্দ্র হিসেবে খ্যাত এবং এই জেলায় অবস্থিত দেশের একমাত্র মানসিক হাসপাতাল ও হার্ডিঞ্জ ব্রিজ। এছাড়াও ইশ্বরদী রেলওয়ে জংশন, দেশের অন্যতম বড় রেলওয়ে কেন্দ্র, এখানে অবস্থিত।

৮. সিরাজগঞ্জ জেলার উপজেলা সমূহ 

  • সিরাজগঞ্জ, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর, তাড়াশ, বেলকুচি, চৌহালি, কামারখন্দ, কাজীপুর, রায়গঞ্জ,  উপজেলা ইত্যাদি।

সিরাজগঞ্জ জেলা বঙ্গবন্ধু সেতুর প্রবেশদ্বার, যা ঢাকা ও উত্তরবঙ্গের সংযোগ স্থাপন করে ও দেশের অন্যতম প্রধান তাঁতশিল্প এবং এনায়েতপুর তাঁতের শাড়ির জন্য বিখ্যাত। সিরাজগঞ্জ জেলার ভূগোল প্রধানত নদী এবং জলাভূমিতে গঠিত। এই জেলা কৃষি এবং মৎস্যচাষে সমৃদ্ধ, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

রাজশাহী বিভাগের ভৌগোলিক পরিচিতি

১৯৪৭ সালের পাক-ভারত বিভাজনের পর পূর্ব-পাকিস্তানের বিভাগ হিসাবে পরিণত করা হয় রাজশাহীকে ও এই বিভাগের সদর দফতর করা হয় রাজশাহী শহরকে। তখনকার সময়ে রাজশাহী বিভাগের জেলা সমূহ ছিল , রাজশাহী, বগুড়া, পাবনা,কুষ্টিয়া, খুলনা, যশোর, রংপুর ও দিনাজপুর। তবে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর, ৫ টি জেলা নিয়ে রাজশাহী বিভাগ বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত হয়।

পরে ১৯৮৪ সালে এই বিভাগের প্রতিটি জেলার মহকুমা জেলাতে পরিণত হয়। তখন এই বিভাগের মোট জেলার সংখ্যা ছিল ১৬টি। ২০১০ সালে রংপুর অঞ্চলের ৮টি জেলা নিয়ে রংপুর বিভাগ গঠন করা হয় এবং রাজশাহী অঞ্চলের ৮টি জেলা নিয়ে বর্তমান রাজশাহী বিভাগ পুনঃগঠিত হয়। ঢাকা-চট্টগ্রাম বিভাগের পরেই রাজশাহী বাংলাদেশের তৃতীয় বিভাগ নামে পরিচিত। বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ পদ্মা নদী রাজশাহীতে । এছাড়াও অনেক ছোট  বড় নদী রাজশাহী বিভাগে অবস্থিত।

রাজশাহী বিভাগের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য 

বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত রাজশাহী বিভাগ এবং এটি গঙ্গা, পদ্মা এবং যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত। বিভাগের প্রধান ভূগোলগত বৈশিষ্ট্য হলো:

নদী এবং জলাশয়: রাজশাহী অঞ্চলে নদীগুলোর গুরুত্ব অসীম। এই নদীগুলো কৃষিতে পানি সরবরাহ এবং মৎস্য চাষের জন্য অপরিহার্য।

পাহাড় এবং সমভূমি: রাজশাহী জেলার কিছু অংশে পাহাড়ি অঞ্চল রয়েছে, যা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর।

আবহাওয়া: রাজশাহী বিভাগের আবহাওয়া সাধারণত আর্দ্র, গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা বেড়ে যায় এবং বর্ষাকালে পর্যাপ্ত বৃষ্টি হয়, যা কৃষির জন্য উপকারী।

রাজশাহী বিভাগের ঐতিহাসিক কিছু স্থান

বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত রাজশাহী বিভাগ ইতিহাস ও ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ একটি অঞ্চল। প্রাচীনকাল থেকেই এই অঞ্চল ছিল শিক্ষা, সংস্কৃতি, ধর্মীয় ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।রাজশাহীতে সেন, পাল, মুসলিম শাসক ও জমিদারদের শাসনামল থেকে গড়ে উঠেছে অসংখ্য মসজিদ,মন্দির, বৌদ্ধ বিহার, দুর্গ ও রাজপ্রাসাদ।

এছাড়াও সোনা মসজিদ, বাঘা মসজিদ, কুসুম্ববা মসজিদ, পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার, মহাস্থানগড়,পুঠিয়া রাজবাড়ি ও নাটোর রাজবাড়ির মতো ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো রাজশাহী বিভাগের গৌরবময় অতীতের সাক্ষ্য বহন করে। এ সব নিদর্শনের মাধ্যমে প্রাচীন বাংলার সভ্যতা, শিল্পকলা ও স্থাপত্যের উৎকর্ষতা আজও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।

তাই রাজশাহী বিভাগকে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নিচে রাজশাহী বিভাগের ঐতিহাসিক স্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হলো-

  • পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার (নওগাঁ):  পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার নওগাঁ এর মধ্যে একটি ঐতিহ্যবাহী স্থান। এটি প্রাচীন সোমপুর মহাবিহার নামে পরিচিত। মূলত এটি খ্রিস্টীয় অষ্টম শতকে নির্মিত হয়েছিল এবং প্রাচীন বাংলার বৌদ্ধ সভ্যতার গুলোর মধ্যে উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
  • বাঘা মসজিদ (রাজশাহী):  বাঘা মসজিদ ১৫২৩ সালে সুলতান নসরত শাহ নির্মিত হয় । আর এই মসজিদটি মূলত সুন্দর কারুকাজের জন্য বিখ্যাত। এটি একটি প্রাচীন স্থাপত্য নিদর্শন এবং রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী মসজিদ গুলোর মধ্যে অন্যতম।
  • সোনা মসজিদ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ): সুলতানি আমলে সোনা মসজিদ নির্মিত হয় এবং মসজিদের গায়ে সোনালি কারুকাজের জন্য এটি সোনা মসজিদ নামে পরিচিত। এটি বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন মসজিদ।
  • উত্তরা গণভবন (নাটোর): নাটোর রাজবাড়ি নামেও পরিচিত, যা নাটোর রাজাদের বাসস্থান ছিল। বর্তমানে এটি সরকারি ব্যবহারের জন্য গণভবন হিসেবে পরিচিত এবং একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র।
  • বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর (রাজশাহী): এটি বাংলাদেশের প্রথম প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর, যেখানে প্রাচীন বাংলার বিভিন্ন সভ্যতা ও সাংস্কৃতিক নিদর্শন সংগ্রহ করা হয়েছে। ১৯১০ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
  • পুঠিয়া রাজবাড়ি ও মন্দির কমপ্লেক্স (রাজশাহী): পুঠিয়া রাজবাড়ি এবং এর পাশে অবস্থিত মন্দির কমপ্লেক্স রাজশাহীর প্রাচীন স্থাপত্যের জন্য বিখ্যাত। এখানে গোবিন্দ মন্দির, শিব মন্দিরসহ আরও কিছু মন্দির রয়েছে, যা সুলতানি ও মুঘল স্থাপত্যশৈলীর মিশ্রণে নির্মিত।
  • কান্তনগর জমিদার বাড়ি (পাবনা): পাবনার প্রাচীন জমিদারদের একটি প্রাসাদ, যা স্থাপত্যশৈলী এবং ইতিহাসের কারণে গুরুত্বপূর্ণ। জমিদারি প্রথার প্রতীক হিসেবে এই বাড়িটি খ্যাত।
  • মহাস্থানগড় (বগুড়া):  খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে স্থাপিত এই নগরী বাংলার প্রাচীনতম নগরী হিসেবে পরিচিত। এটি প্রাচীন পুণ্ড্রবর্ধন রাজ্যের রাজধানী ছিল এবং বর্তমানে প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণার জন্য বিখ্যাত।
  • ভাসু বিহার (বগুড়া): এটি মহাস্থানগড়ের কাছেই অবস্থিত একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান, যা বৌদ্ধ সভ্যতার নিদর্শন বহন করে। এখানে খননকাজের মাধ্যমে প্রাচীন বিভিন্ন স্থাপনা আবিষ্কৃত হয়েছে।

রাজশাহী বিভাগের এই ঐতিহাসিক স্থানগুলো বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ইতিহাস, স্থাপত্যশৈলী এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরে, যা পর্যটকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণীয়।

রাজশাহী বিভাগের সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য (Culture and Heritage)

রাজশাহী বিভাগের সংস্কৃতি বৈচিত্র্যময় এবং সমৃদ্ধ। প্রতিটি জেলা নিজস্ব সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে গঠিত, যা স্থানীয় উৎসব, খাবার, এবং ঐতিহ্যের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়।

ঐতিহ্যবাহী উৎসব: রাজশাহীতে বিভিন্ন ধরনের সংস্কৃতি এবং  ঐতিহ্যবাহী উৎসব পালিত হয়ে থাকে, যেমন- 

  • ঈদ: মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব, যা আনন্দ ও মিলনের বার্তা নিয়ে আসে।
  • পহেলা বৈশাখ: বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত হয়, যেখানে বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতিফলন ঘটে।
  • বড়দিন: খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের উৎসব, যা যিশু খ্রিস্টের জন্মদিন হিসেবে পালিত হয়।
  • দুর্গা পূজা: হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান উৎসব, যা দেবী দুর্গার পূজা ও আরাধনার মাধ্যমে পালিত হয়।
  • ইংরেজি নববর্ষ: নতুন বছরের আগমন উপলক্ষে বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়

স্থানীয় খাবার: রাজশাহী অঞ্চলের খাবার বিশেষ ভাবে জনপ্রিয়, যেমন-  রাজশাহী আম, বগুড়ার দই, সিরাজগঞ্জের মাথা, পাবনার মিষ্টি এবং নাটোরের কাঁচা গোল্লা ইত্যাদি। এই খাবারগুলো স্থানীয় উৎসব এবং অনুষ্ঠানে বিশেষ ভাবে পরিবেশন করা হয়।

রাজশাহী বিভাগের জেলা ও উপজেলা সমূহ-শেষ কথা

আজকের মূল টপিক রাজশাহী বিভাগের জেলা ও উপজেলা সমূহ সম্পর্কে। আপনারা যদি উপরের সম্পূর্ণ পোস্টি পরে থাকেন তাহলে রাজশাহী বিভাগের সকল জেলা ও উপজেলা সমূহ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জনতে পারবেন। এমন নিত্য নতুন তথ্য জানতে অবশ্যই আমাদের ওয়েব সাইটটি ফলো করুন। এই পোস্ট থেকে আপনার মতামত অবশ্য কমেন্টের মাধ্যমে জানাবেন। আমাদের সাথে এতক্ষণ থাকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। 


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url