বাটন ফোনে নগদ একাউন্ট খোলার নিয়ম ২০২৬
আপনি কি বাটন ফোনে নগদ একাউন্ট খোলার নিয়ম সম্পর্কে জানতে গুগলে সার্চ করছেন? তাহলে নিচের আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ পড়ুন। কেননা আর্টিকেলের মধ্য বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করেছি কি ভাবে বাটন ফোনে নগদ একাউন্ট খোলবেন ও নগদ একাউন্টের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য।
পোস্ট সূচিপত্র.
বাটন ফোনে নগদ একাউন্ট খোলার নিয়ম
বর্তমানে গ্রাহক সেবার দিক থেকে বিকাশ এর পরেই নগদ স্থান করে নিয়েছে। কেননা লেনদেন ছাড়াও আরও অনেক ধরনের সেবা গ্রাহকদের প্রদান করে নগদ বিশ্বাস অর্জন করেছে। আজকাল অনেকের নগদের মাধ্যমে টাকা লেনদেন করে থাকে কিন্তু অনেকেই আছেন যারা নগদ একাউন্ট নেই বা খোলার নিয়ম সম্পর্কে জানেন না। বিশেষ করে তারা নিচের নিয়ম অনুসরণ করে বাটন ফোনে নগদ একাউন্ট খুলে নিতে পারেন-
- বাটন মোবাইলে নগদ একাউন্ট খোলার জন্য আপনাকে আপনার বাটন মোবাইল ফোনের ডায়াল প্যাড থেকে নগদ কোড ডায়াল করুন *১৬৭#।
- এরপর Set-4 digit Pin সেট করে Ok করুন।
- তারপর আবার একই পিন দিয়ে ‘Confirm’ করুন।
- তারপর আপনার নগদ একাউন্ট খুলে যাবে এবং যে কোন সেবা নিতে আপনি *১৬৭# ড্যায়াল করতে পারেন।
বাটন ফোনে নগদে টাকা দেখার নিয়ম
আপনি যদি বাটন ফোনে নগদে টাকা দেখার নিয়ম সম্পর্কে জানতে চান? তাহলে আর্টিকেলটি পরতে থাকুন। বাটন ফোনে নগদে টাকা মূলত USSD কোড ডায়াল করার মাধ্যমে নগদ একাউন্টের টাকা দেখা যায়।
নগদ একাউন্ট দেখার সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি হলো USSD কোড ব্যবহার করা। যে কোন মোবাইল থেকে USSD কোড ব্যবহার করে আপনি খুব সহজেই আপনার একাউন্টের ব্যালেন্স, ট্রানজেকশন এবং অন্যান্য তথ্য দেখতে পারবেন।
*167#- USSD কোড ডায়াল করে
আপনার বাটন ফোনে নগদে টাকা পারবেন। এর জন্য নিচের নিয়ম গুলো অনুসরণ করুন-
- প্রথমে, আপনার বাটন ফোন বা অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন থেকে *167# ডায়াল করুন। এতে করে নগদের প্রধান মেনু স্ক্রিনে আসবে।
- এরপর, ৭ চাপুন যাতে আপনি “My Nagad” অপশনে প্রবেশ করতে পারেন।
- তারপর, ১ নির্বাচন করুন, যা আপনাকে “Balance enquiry” অপশনে নিয়ে যাবে।
- এখন, আপনার নগদ অ্যাকাউন্টের পিন নম্বরটি লিখে সেন্ড বা এন্টার করুন। কিছু সেকেন্ডের মধ্যেই আপনার স্ক্রিনে আপনার নগদ একাউন্ট ব্যালেন্স দেখতে পাবেন।
নগদ একাউন্ট খুললে কত টাকা বোনাস
- নতুন নগদ একাউন্ট খুললে সাধারণত ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত তাৎক্ষণিক বোনাস পাওয়া যায়। তবে এটি নগদের চলমান ক্যাম্পেইনের ওপর নির্ভরশীল। নতুন অ্যাপ ডাউনলোড ও সেলফ রেজিস্ট্রেশন করে পিন সেট করলে ২০ টাকা এবং প্রথম ১০০০ টাকা বা তার বেশি ক্যাশ-ইন (Cash-in) করলে আরো ৩০ টাকা বোনাস পাওয়া যেতে পারে।
- ব্যাংক থেকে অ্যাড মানি: নির্দিষ্ট ব্যাংক থেকে নগদ একাউন্টে ৫,৫৫০ টাকা অ্যাড মানি করলে ৫০ টাকা ইন্সট্যান্ট বোনাস পাওয়া যায়।
- মোবাইল রিচার্জ: নতুন একাউন্ট খুলে পিন সেট করে ১ম মাসে যেকোনো পরিমাণ রিচার্জে ২০% (সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা পর্যন্ত) ক্যাশব্যাক পাওয়া যেতে পারে।
নগদ একাউন্ট কোড ভুলে গেলে করণীয়?
নগদ একাউন্ট কোড ভুলে গেলে পিন রিসেট করে নিতে পারেন। এ জন্য, হেল্প লাইনে কল করতে পারেন কিংবা নগদ কাস্টোমার কেয়ারে সরাসরি যেতে পারেন। তবে, এক্ষেত্রে যে ব্যক্তির এনআইডি কার্ড দিয়ে নগদ একাউন্ট খোলা তাকে সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে।
*167# ড়ায়াল করে নগদ পিন রিসেট করার নিয়ম
আপনি যদি আপনার নগদ একাউন্টের পিন ভুলে যান তাহলে, USSD কোড ডায়াল করে খুব সহজেই পিন রিসেট করতে পারেন। এ জন্য আপনি *167# কোডটি ডায়াল করে নিচের পদক্ষেপ গুলো অনুসরণ করুন-
- প্রথমে, আপনার মোবাইল ফোনের ডায়াল প্যাড খুলুন এবং *167# ডায়াল করুন।
- তারপর পিন রিসেট অপশনে যেতে 8 লিখে পাঠান।
- এরপর, “Forgot PIN” অপশনটি কনফার্ম করতে 1 লিখে পাঠান।
- তারপর আপনার নগদ একাউন্টটি যে NID কার্ড দিয়ে খুলেছেন, সেই এনআইডি কার্ডের নম্বর লিখে পাঠান।
- এরপর এনআইডি কার্ডে উল্লেখিত জন্ম তারিখ লিখে পাঠান।
- তারপর গত ৯০ দিনে আপনার নগদ একাউন্টে কোন লেনদেন হয়েছে কিনা তা সিলেক্ট করুন: 1 (Yes) অথবা 2 (No)।
- এরপর আপনার একাউন্ট থেকে করা লেনদেনের প্রকার নির্বাচন করুন এবং পাঠান।
- তারপর আপনার নগদ একাউন্টের সর্বশেষ লেনদেনের পরিমাণ টাইপ করুন।
- এরপর কনফার্মেশন এসএমএস-এর জন্য অপেক্ষা করুন। তার কিছুক্ষণ পর আপনি একটি এসএমএস পাবেন যেখানে আপনার পিন রিসেট অনুরোধ সফল হয়েছে। নতুন ৪ সংখ্যার পিন সেট করার জন্য আবার *167# ডায়াল করুন।
- তারপর নতুন ৪ ডিজিটের পিন প্রবেশ করান এবং পাঠান।
উপরের পদক্ষেপ গুলো অনুসরণ করে আপনি আপনার নগদ একাউন্টের পিন রিসেট করতে পারবেন।
নগদ একাউন্টের সুবিধা সমূহ
- খুব সহজে মোবাইল নম্বর ও জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) ব্যবহার করে কয়েক মিনিটেই একাউন্ট খোলা যায়, কোনো ব্যাংকে যেতে হয় না।
- তাৎক্ষণিক ভাবে নগদ একাউন্ট থেকে অন্য একাউন্টে টাকা পাঠানো ও গ্রহণ করা যায়, যা সময় বাঁচায়।
- দেশের প্রায় সব এলাকায় এজেন্ট পয়েন্ট থাকায় সহজেই ক্যাশ আউট করা যায়।
- অন্যান্য মোবাইল ব্যাংকিং সেবার তুলনায় কম খরচে লেনদেন করা সম্ভব, ফলে সাশ্রয় হয়।
- যেকোনো মোবাইল অপারেটরে দ্রুত রিচার্জ করা যায় এবং অনেক সময় বোনাস বা ক্যাশব্যাক পাওয়া যায়।
- বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, ইন্টারনেটসহ বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল ঘরে বসেই পরিশোধ করা যায়।
- অনলাইন শপিং বা ই-কমার্স সাইটে নিরাপদ ও দ্রুত পেমেন্ট করা যায়।
- সরকারি ভাতা, অনুদান বা বেতন সরাসরি একাউন্টে পাওয়া যায়, যা ঝামেলামুক্ত।
- নিয়মিত বিভিন্ন অফার, ক্যাশব্যাক ও ডিসকাউন্ট সুবিধা পাওয়া যায়, যা ব্যবহারকারীদের আকৃষ্ট করে।
- ২৪ ঘণ্টা (২৪/৭) যেকোনো সময় লেনদেন করা যায় এবং PIN ও OTP দ্বারা নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকে।

এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url